1. admin@ekattortribune.com : admin :
  2. ekattortribune2020@gmail.com : Ekattor Tribune : Ekattor Tribune
রংপুরের একজন রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্য ও জনপ্রতিনিধি-মোকাররম হোসেন সুজন - একাত্তর ট্রিবিউন
রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :

রংপুরের একজন রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্য ও জনপ্রতিনিধি-মোকাররম হোসেন সুজন

বিশেষ প্রতিবেদক, মোহাম্মদ নুর আলম সিদ্দিকী মানু
  • বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১
  • ৩৫ বার

জনআকাংখার জনপ্রতিনিধি, গরিব-দুঃখী খেটে খাওয়া শ্রমজীবী কর্মজীবী মানুষের প্রিয় রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্য, সাবেক ১৪বছরের সফল চেয়ারম্যান, রংপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদের আইন বিষয়ক সম্পাদক জনাব মোঃ মোকাররম হোসেন সুজন, তার “রাজনীতির সেকাল একাল’…..যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে তেমন একটা অবগত আমি নই। সমসাময়িক সময়ে কিছুটা আগ্রহ হয়েছে। অনেকেই অনেক কিছুই স্যোসাল মিডিয়ায় তুলে ধরে দেখি। দেখতে দেখতে আমারও কিছুটা ইচ্ছা জাগলো যে কিছু লিখি। তাই এই লেখা,এখানে যা উল্লেখ্য সবটুকুই বাস্তব জীবন থেকে,রঙ মেশানো কিছু নেই।

আমার জন্মটা রংপুর জেলার এক অজপাড়া গায়ে।দুরন্তপনার মধ্য দিয়েই কেটেছে শৈশব। কিছুটা বুঝতে শিখেই সবার অজান্তে অনেক বড় হওয়ার স্বপ্ন লালন করে পাড়ি জমাই রাজধানীর বুকে। সেই অজপাড়াগাও থেকে ঢাকা শহরের চিন্তা আসাটাই তখন অনেক দুঃস্বপ্নই বলা চলে।

সেই চিন্তা নিয়েই ঘুরে বেড়াই অচেনা ঢাকা শহরের পথে প্রান্তরে। ঘুরতে ঘুরতেই পুরনো ঢাকার ভিক্টোফিয়া পার্কে চোখ আটকে যায় এক শোক বিহবল মিছিলে,আগ্রহ নিয়েই এগিয়ে গিয়ে দেখি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর তবারক বিতরন ও দোয়া মাহফিল।
সময়টা ১৯৯৬ সালের ৩০ মে,যোগ দিলাম দোয়া মাহফিলে,নানাজন বক্তব্য রাখছেন জিয়াউর রহমানের জীবনি থেকে। অনেকটাই আকৃষ্ট হয়ে পড়ি জিয়ার আদর্শে। রাজনীতির সম্যক কোন ধারনা বা ইচ্ছা কোনটাই আমার ছিল না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক বন্ধু রনি, বজলু, কামরুল, লিমন, জহির, আকতার, শহীদ, শিপু, শাওন, পলাশ, রিয়াজ, মামুনদের সাথে মিশতে মিশতে কখন যেন জড়িয়ে গেলাম জিয়াউর রহমানের আদর্শিক রাজনীতিতে।
তাদের হাত ধরেই পথ চলতে শুরু করি রাজনীতির অলিগলি থেকে রাজপথে।
রাজনৈতিক পটপরিক্রমায় ১৯৯৬ সালের কোন এক সময় গ্রেফতার হয়ে বন্দি থাকি জেলখানার অন্ধকার ঘরে।


১৯৯৭ সালে বের হই, কিন্তু বেশিদিন উম্মুক্ত আকাশের নিচে খোলামেলা সুর্যের আলো আর দেখা হল না আবার গ্রেফতার হই। প্রতিদিন জেলখানায় আসে কত কত জন আবার বের হয়ে যায়। যাদের মধ্যে পরিচিত অপরিচিত অনেকেই ছিল কিন্তু কখনো কারো সাথে কথা হতো না। এরই মধ্যে জেলখানার আমদানীতে দেখা হয় রাজনীতির সহযোদ্ধা অতি আদরের ছোট ভাই ফয়সাল আহমেদ সজলের সাথে। কথা না বলার ইচ্ছাটা এখানে আটকে রাখতে পারলাম না। কাছে ছুটে গেলাম সাধ্য মত চেষ্টা করলাম ভাল রাখার। ওর এটাই প্রথম জেল ছিল বিধায় অনেক ভীত আর উপায়হীন ছিল। আমাকে দেখে যেমন সাহস পেয়েছিল,আবার ভয়ে চোখ ছলছল ছিল কারন আমার গায়ে ছিল তখন কয়েদীর পোষাক। কোর্টের বারান্দায় একদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব আব্দুস সাত্তার ভাই বন্ধু মানিক লিমন কামরুল আর রনির কাছে আমার পুরো নাম জানতে চায়। আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম নাম জিজ্ঞেস করায়। ভয়ের কারন ছিল আমার চলাফেরা অনেকটাই উগ্রতা ভরা ছিল। তখন সাগীর ভাই হামিদ ভাই এর নেতৃত্বে কড়া শাষন চালু ছিল। ওরা আস্বস্ত করলো ভয় নেই নতুন কমিটি হবে সেখানে আমাকে রাখা হবে।
সাগীর ভাই এর কথা এসে যাওয়ায় একটা গল্প মনে পড়ে গেল। সাগীর ভাইয়ের নির্দেশে মিয়া নুরুদ্দিন অপু ভাইয়ের তত্বাবধানে মুন ষ্টার সিনেমা হলের পাশে এক হোটেলে আমাদের খাওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হলো।
সবার জন্য দুই প্লেট ভাত বরাদ্দ করা হলো,সবাই খেতে বসে গেল কিন্তু বন্ধু সাইদুর রহমান রনি অপু ভাইকে বললো ভাই আমরা সবাই দুই প্লেট খাবো কিন্তু সুজনের ২০ প্লেট লাগবে। এই কথা বলার সাথে সাথে কামরুল লিমন খোকন জহির শিপু আকতার টুকুও সায় দিল। আমি খেতে পারতাম অনেক,ভয়ে ভয়ে ১৪/১৫ প্লেট খেয়ে ফেললাম,উপস্থিত সবার মধ্যে হইচই পড়ে গেল।
জেল থেকে বের হয়ে খুশির খবরটাও পাই যে আমাকে ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালেয়র কমিটিতে সহ আইনসম্পাদক করা হয়েছে।

নতুন উদ্যমে শুরু হয় আবার রাজনীতি পদধারী নেতা হিসেবে।এরই মধ্যে পটপরিবর্তন হয় রাজনীতির,বিএনপি ক্ষমতায় আসে। অপারেশন ক্লিনহার্ট এর অভিযান শুরু হয় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে। সেনাবাহিনী আমাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়,কিছুক্ষন পরে জানতে পারলাম আনিসুর রহমান খোকনকেও ধরে নিয়ে আসা হয়েছে এবং তাদের ক্যাম্পে তিনদিন চোখ বেধে রাখে। তিনদিন পর আমাকে আর্মি থেকে শর্ত দেয়া হলো রাজনীতি ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়ার।জীবন বাচানোর জন্য রাজী হয়ে গেলাম আর্মির শর্তে। চলে গেলাম আবার সেই চিরচেনা জন্মভুমিতে।

রাজনীতি ছেড়ে অজোপাড়াগায়ে ফিরে আসলেও রাজনীতি আমাকে ছাড়েনি। গ্রামের অসহায় নিপিড়িত বঞ্চিত মানুষদের দুঃখ দুর্দশা দেখে মন কাদে,চোখের কোন অশ্রুবিন্দু জমে। সবসময় তাদের সুখে দুখে পাশে থাকার চেষ্টা করি।

গ্রামের নিরিহ জনগন ভালবাসতে শুরু করে আমাকে। আমিও সদা সর্বদা তাদের পাশে থাকি,মন প্রান উজাড় করে ভালবাসি তাদের। আমার সেই ভালবাসার প্রতিদান দিতে তারা একতা বদ্ধ হয়। দল বেধে তারা আমার কাছে আসতে থাকে আর বলে তারা আমার জন্য কিছু করতে চায়। আমাকে তারা তাদের প্রতিনিধি বানাতে চায়। এখানেও সেই জেল আমাকে ছাড়লো না।

অসহায় খেটে খাওয়া মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়ায় গ্রাম্য কুটকূশলী মোড়লদের। ষড়যন্ত্র শুরু করে আমার বিরুদ্ধে। ষড়যন্ত্রের এক পর্যায়ে গ্রেফতার করা হয় আমার বাবা ভাই মামা বোন জামাই সহ আরো অনেককে। আমাকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়। পরে শর্ত দেয়া হয় আমি আত্বসমর্পন করলে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

শর্ত মতে আমি আত্বসমর্পন করে সবাইকে বের করি।আমি জেলে বন্দি থাকলেও মানুষের ভালবাসা থেকে আমাকে আলাদা করতে পারেনি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হলো আমি জেলখানায়। গ্রামবাসি ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেরাই কাধে তুলে নিলেন নির্বাচনের সকল দায়িত্ব।

আল্লাহর অশেষ রহমতে অসহায় নিপিড়িত মানুষের ভালবাসা আর কায়িক পরিশ্রমে জেল থেকেই মাত্র ২২বছর ৭ মাসে নির্বাচিত হলাম সর্বকনিষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে।

কিন্তু জনপ্রতিনিধি হতে বয়স লাগে ২৫ বছর। আর এখানেই আমার কৃতিত্ব। মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতার বশে আবদ্ধ হিয়ে গেলাম সারাজীবনের জন্য।
এক নাগাড়ে ১৪ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে ভালবাসা আর কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ রইলাম অসহায় মানুষদের কাছে। তারাও থেমে নেই,আমার ভালবাসা পেয়ে তারাও আমাকে আরো বড় বড় স্বপ্ন বুন্তে শুরু করে।

তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাকে ভাবতে হয় উপজেলা আর জাতীয় নির্বাচন নিয়ে,উপজেলা নির্বাচনে মনোনিত হই বিএনপির সমর্থনে ২০১৪সালে।

২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনেও বিএনপি মনোনয়ন দেয় কিন্তু দুঃখ ভরে বলতে হয় বর্তমান বাংলাদেশের নির্বাচনের অবস্থা।
অনেক কথা বললাম,অনেককে ভালবাসলাম হাজার হাজার মানুষের ভালবাসা পেলাম।
প্রকৃতির নিয়মে এক সময় থেমে যাবে আমার এই পথচলা।

কিন্তু মানুষের ভালবাসা কি থেমে যাওয়ার? না থামাবার নয়।
তাই আমি ১৭ বছর বয়স থেকে জিয়ার আদর্শ ধারন করে যে ভালবাসা বিলিয়ে দেওয়া শুরু করেছিলাম আমার অবর্তমানে যেন তা থেমে না যায় সেইজন্য আমার ১১ বছরের ছেলে সাকলাউন নেওয়াজ আলিফকে, আপনাদের ভালবাসার প্রশিক্ষন দিতে শুরু করেছি সেই জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আর খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও নগদ অর্থ সহায়তার মাধ্যমে।

যদিও এই জনপদে জিয়ার আদর্শের অনুসারী খুবই নগন্য,তবুও ভালবাসা দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নে।
আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি আপনারা আমার ভালবাসার প্রতিদান স্বরুপ আমার ছেলেকে আপনাদের ভালবাসা দিয়ে আপনাদের বুকে ঠাই দিবেন। দোয়া করবেন যেন আমার ছেলেও আল্লাহ এবং রাসুলের সুন্নাহর পরে জিয়ার আদর্শ বুকে লালন করে আপনাদের ভালবাসায় সিক্ত হতে পারে।

এই জীবনে লেখার মত অনেক অনেক গল্প আছে কিন্তু স্যোসাল মিডিয়ায় যা লিখা সম্ভব না।
আল্লাহ যদি সুযোগ দেয় পুস্তক আকারে প্রকাশের ইচ্ছা আছে।

মৃত্যু নিয়ে ভাবিনা কিন্তু মৃত্যর পরে জবাবদিহিতা যে আছে সেটা আমাকে সারাক্ষন ভাবায় রাজনীতির পথচলায় শত্রু মিত্র নিয়েও মাথাব্যথা নাই।
জীবন যুদ্ধে পথ চলছি অবিরাম। বিত্তবৈভব নিয়েও অতি আকাঙ্ক্ষা নেই। জীবন চলার পথে যতটুকুই জেনেছি শিখেছি সবটুকুই জীবনের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শিখেছি।

পরিশেষে আপনাদের কাছে দোয়ার আর্জি রইলো তারেক রহমান যেন রাজনৈতিক সকল ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে দেশ মাতৃকার এই জনপদে অচিরেই ফিরে আসতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর পড়ুন

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
১৭৫,০২৭,৯৫৫
সুস্থ
১১৩,১৯৫,৯৪৩
মৃত্যু
৩,৭৮২,৭৮৩

নামাজের সময় সূচি

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৪৬
  • ১২:০১
  • ১৬:৩৭
  • ১৮:৪৯
  • ২০:১৫
  • ৫:১০

Website Live Visitor

0 3 8 7 5 0

বিজ্ঞাপন

Add-01
Add-512 By 512
©All rights reserved © Ekattortribune.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
English